উস্কানিমূলক ফেসবুক পোস্টের জন্য যুবক গ্রেপ্তার

22

ধর্ষণ বিরোধীদের ধর্ষণ করার হুমকি-উস্কানি দেয়ার দেয়ার অভিযোগে ঢাকার খিলক্ষেত থেকে একজন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১ কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার মুশফিকুর রহমান বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য জানিয়েছেন। ‘কিভাবে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করা যায়’ এরকম একটি পোস্ট নিয়েছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া এই যুবক।

এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলো এমন সময় যখন ধর্ষণ এবং নারী-শিশুর ওপর সহিংসতার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে।

এসব বিক্ষোভ নিয়ে কাউকে কাউকে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপ করতেও দেখা গেছে।

র‍্যাবের কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান জানান, র‍্যাবের পক্ষ থেকে অনলাইন মনিটরিং একটি সেল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে তারা দেখতে পেয়েছেন, ফেসবুকে বিভিন্ন সময় নারী মডেল, নারী কোন সেলিব্রেটি, লেখকের পোস্টে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন যারা করছেন, সেখানে যে মেয়েরা রয়েছে, তাদের নিয়েও বেশ কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করা হচ্ছে।

”আমাদের সাইবার মনিটরিং সেন্টার থেকে আমরা বেশ কিছু ভাইরাল কন্টেন্ট শনাক্ত করি। সেখানে একটা পোস্ট দেখতে পাই যে, একটা মেয়েকে কোথায় কোথায় আঘাত করলে, লাথি দিলে, ঘুষি দিলে দুর্বল হয়ে যাবে, নিস্তেজ হয়ে যাবে, তখন তাকে কীভাবে রেপ করা যাবে, এই জাতীয় একটি পোস্ট দেখতে পাই।”

”আমাদের সেলের নজরে আসার পর আমরা লোকেশন ট্রেস করে তাকে ধরার চেষ্টা করি। তার বাসা আদাবরে হলেও সে পালিয়ে যায়। পরে খিলক্ষেত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

ঢাকার খিলক্ষেত থানায় ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলার পর তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এরকম মন্তব্য বা পোস্ট করা আরও অন্তত পাঁচটি ফেসবুক আইডি র‍্যাব শনাক্ত করেছে বলে জানানো হয়েছে।

র‍্যাবের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত তরুণ দ্রুত সময়ে ফেসবুক সেলিব্রেটি হওয়ার আশায় ফেসবুকে এই ধরণের পোস্ট করেছে বলে র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

ফেসবুকে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই জাতীয় মন্তব্য যারা করেন, তাদের ব্যাপারে কী ধরণের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, জানতে চাইলে স্কোয়াড্রন লিডার মুশফিকুর রহমান বলছেন, ”আমরা আরও বেশ কয়েকটি আইডি ট্র্যাক করেছি। তারা বিভিন্ন গ্রুপ থেকে, পেজ থেকে এরকম পোস্ট করছে। আমাদের নজরে আসলেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। কেউ যদি স্বেচ্ছায় আমাদের তথ্য দিতে চায়, তাহলে আমরা সেই অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেবো।”

”আমরা ধর্ষণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থানে যাচ্ছি। এই কারণে অনলাইন-অফলাইন সব দিক থেকেই একটা কঠোর অবস্থানে যাচ্ছি।”