কবরস্থানে নড়ে ওঠা শিশুটিকে বাঁচানো গেল না

143

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত ঘোষণার পর কবরস্থানে গিয়ে নড়েচড়ে ওঠা সেই নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুটির বাবা মো. ইয়াসিন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ বক্সের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইয়াসিন জানান, শিশুটিকে রাত ১১টা ২৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা শিশুটিকে দাফনের জন্য রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।

গত শুক্রবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ইয়াসিনের স্ত্রী শাহিনুর বেগম (২৭) একটি মেয়েশিশুর জন্ম দেন। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল থেকে মৃত্যুসনদ নিয়ে ইয়াসিন শিশুটিকে দাফনের জন্য রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যান। সেখানে দাফনের খরচ পোষাতে না পেরে শিশুটিকে রায়েরবাজার কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কবর খোঁড়ার সময় শিশুটি নড়ে উঠে কাঁদতে থাকে। তখন ইয়াসিন তাকে আবার ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে নবজাতক ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

শিশুটিকে মৃত ঘোষণার ঘটনায় সমালোচনার মুখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গত মঙ্গলবার হাসপাতালের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে কর্তৃপক্ষ।

ওই সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালটির পরিচালক এ কে এম নাসিরউদ্দিন বলেন, জন্মের পর ওই নবজাতককে পৌনে এক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন চিকিৎসকেরা। এই সময়ের মধ্যে তার কোনো স্পন্দন পাওয়া যায়নি। তাকে মৃত ঘোষণায় চিকিৎসকদের কোনো অবহেলা ছিল না। তিনি আরও বলেন, যেহেতু বাচ্চাটি কবরস্থানে গিয়ে নড়েচড়ে উঠেছে, তাই এর দায়ভার এড়ানো যায় না। এ ঘটনায় গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি কিছু সুপারিশ করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও কিছু সুপারিশ রেখেছে।

হাসপাতালের গঠিত কমিটি ও নবজাতক ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক মনীষা ব্যানার্জি একই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নবজাতকের বেঁচে যাওয়া যেমন একটি ‘মিরাকল (অলৌকিক ঘটনা)’, তেমনি তাকে বাঁচিয়ে রাখাও ‘মিরাকল’। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ২৮ সপ্তাহের নিচে কোনো শিশু ভূমিষ্ঠ হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। আর এই শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়েছে ২৬ সপ্তাহে। তাকে বাঁচিয়ে রাখার সব রকম চেষ্টা করছেন চিকিৎসকেরা। তার অবস্থা একটু ভালোর দিকে। তবে এখনো সে আশঙ্কামুক্ত নয়। এ ধরনের শিশুদের ক্ষেত্রে যেকোনো সময় শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে চলে যায়। তিনি শিশুটির জন্য সবাইকে দোয়া করতে বলেছিলেন।

ইয়াসিনের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মালঙ্গা গ্রামে। তিনি পরিবার নিয়ে তুরাগের নিসাতনগর এলাকায় থাকেন।